মানিকগঞ্জ, ১৬ জুলাই (পলিটিকস নিউস ৩৬৫)- বর্ষায় পানি বাড়ার সাথে সাথে মানিকগঞ্জ জেলায় চাহিদা বেড়েছে নৌকার। তাই ডিঙ্গি নৌকা তৈরিরও ধুম পড়েছে এ জেলায়। নৌকা তৈরির কারিগরদের যেন ফুরসত নেই। মানিকগঞ্জের হাট-বাজারে এখন নিয়মিতই বসছে নৌকার হাট।
এখন নিয়মিতই বসছে নৌকার হাট।
পদ্মা-যমুনাসহ মানিকগঞ্জের অভ্যন্তরীণ কালিগঙ্গা, ধলেশ্বরী, ইছামতি নদী ও শাখা-নদীগুলোতে পানি বেড়েছে। এসব নদীর পানি উপচে এখন নিম্নাঞ্চলে ঢুকে পড়েছে। সাথে বর্ষার পানিতে টুইটম্বুর বিস্তীর্ণ মাঠ, খাল ও জলাশয়। আর তাই চাহিদা বেড়েছে ডিঙ্গি নৌকার।
জেলার বিভিন্ন হাটে বিক্রি হচ্ছে কোশা, ডিঙ্গীসহ নানা প্রকৃতির নৌকা। তবে জেলার ঘিওর উপজেলার ঐহ্যিবাহী ঘিওর হাটে এখন নৌকা তৈরি ও ব্যবসা জমজমাট হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন আকারের ও প্রকৃতির নৌকা তৈরি করে এই হাটে বিক্রির জন্য তোলা হয়। আর বর্ষার শুরু থেকেই ক্রেতা-বিক্রেতাদের সরগরমে জমজমাট হয়ে উঠছে ঘিওর নৌকার হাট। প্রতি বুধবার এখানে হাট বসে। হাটের দিন ছাড়াও এখানে নৌকা পাওয়া যায়।
ঘিওর হাট ছাড়াও জেলার হরিরামপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ঝিটকা হাট, তরা হাট, সিংগাইর উপজেলার জামসা হাটেও নৌকা বেচা কেনা শুরু হয়েছে। দর-দাম মিলে গেলে বিক্রি হচ্ছে নৌকা।
নৌকা কারিগররা জানান, বর্ষা আসলে নৌকার চাহিদা বেড়ে যায়। তারা অন্য কাঠের কাজ বাদ দিয়ে শুধু নৌকা তৈরীতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। বছরের দুই থেকে তিন মাস নৌকার চাহিদা অনেক বেশি থাকে। বর্ষা আসায় তাদের এখন নৌকার চাহিদা বেড়েছে। তাই দিনরাত নৌকা তৈরিতে ব্যস্ততাও বেড়েছে কারিগরদের।
ঘিওর হাটের কারিগর আলমাস ও শেখর চন্দ্র বলেন, জামরুল, রেইনট্রি, আম, কদম, শিমুল, বৈন্যা, ডোমরা ইত্যাদি কাঠ দিয়ে ডিঙ্গি নৌকা, কোশা তৈরি করছেন। কাঠ ভেদে নৌকার দামও ভিন্ন হয়। সাধারণ কাঠের তৈরি প্রতিটি ডিঙ্গি নৌকা তৈরিতে খরচ হয় ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকা। আর বিক্রি হয় ২৫০০ থেকে ৩০০০ টাকায়। ভালো কাঠের প্রতিটি নৌকায় খরচ পড়ে ৩০০০ থেকে ৩৫০০ টাকা। আর বিক্রি হয় ৪০০০ থেকে ৫০০০ টাকায়।
ঘিওর বাজারের নৌকা কারিগর কাঠমিস্ত্রি নীলকমল সূত্রধর বলেন, বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকেই তাদের কারখানায় প্রতিদিন ৫ থেকে ৬টি নৌকা তৈরি হচ্ছে।
নীল কমলের মতো ঘিওর এলাকায় নৌকা তৈরি করছেন এমন ৩০ থেকে ৩৫ জন কারিগর রয়েছেন। তারা প্রত্যেকেই সমান সখ্যক নৌকা তৈরি করছেন। প্রতি সপ্তাহে শতাধিক নৌকা তৈরি করে হাটে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করেন কারিগররা।
এদিকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বেপারিরা নৌকা কিনতে আসেন ঘিওর হাটে। আশপাশের কারিগরদের অগ্রিম টাকা দিয়ে রাখেন চাহিদা অনুযায়ী নৌকার জন্য। বেপারিরা ঘিওর হাটের নৌকা কিনে ঢাকার সাভার, আমিনবাজারসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়ে বিক্রি করেন।
এ ছাড়াও আশপাশের নিম্মাঞ্চল থেকে ঘিওর হাটে মানুষ আসে নৌকা কিনতে। এসব ক্রেতারা বলেন, বাড়ির চারপাশে পানি বেড়েছে। তাই বর্ষায় তাদের নৌকাই ভরসা।
এদিকে নৌকার চাহিদা বাড়ায় দামও বেশি নিচ্ছেন বিক্রেতারা, এমন কথা বলেছেন প্রায় ক্রেতা।
চরবিনোরা গ্রামের নিম্মাঞ্চলের কৃষক নৌকার ক্রেতা আবেদ মিয়া বলেন, তার বাড়ির চারদিকেই এখন পানি চলে এসেছে। বাড়ি থেকে রাস্তায় উঠতে নৌকার প্রয়োজন। তাই নৌকা কিনতে ঘিওর হাটে এসেছেন। তবে এবার নৌকার দাম বেশি চাওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার নৌকা প্রতি ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
এ বিষয়ে নৌকা বিক্রেতারা বলছেন, কাঠের দাম বেড়েছে। বেড়েছে কারিগরদের মজুরি। তাই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে নৌকা।

Comments
Post a Comment